####
সোমলতা আয়নায় নিজেকে দেখছিল,কাঁচাপাকা চুল ,চামড়ায় বয়সের ছাপ সুপষ্ট , চোখে হাই পাওয়ারের চশমা ।বড় ছেলে দীপন কানাডায় ফ্যামিলি নিয়ে থাকে।
ছোটো ছেলে দেবেশ কোলকাতায় ইংরেজির অধ্যাপক ,বিয়ের ঠিক হয়ে আছে ।সোমলতা নিচের ড্রয়ার হাতড়াতে থাকে, দেবজিতের আর তার বিয়ের ছবি ।নীলয়ের ছবির দিকে তাকায় সোমলতা ,স্মৃতির আবর্তে ছত্রিশ বছর আগে ফিরে যায় ।তাকে দেখতে এসেছিল দেবজিত ,সঙ্গে তার বন্ধু নীলয়।হাসিখুশি নীলয়কেই সোমলতার বাড়ির লোকের বেশি পচ্ছন্দ হয়েছিল।সোমলতার সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠলো নীলয়ের।দুমাস পর ধুমধাম করে দেবজিত আর সোমলতার বিয়ে হয়ে গেল ।নীলয় পেশায় নামকরা ফটোগ্রাফার, বিদেশে সেটেল করলো ।দুবছর পর দীপন জন্মালো ,সুখ যেন কানায় কানায় পূর্ণ হল ।হঠাৎ একদিন দেবজিত বুক চেপে ধরে খাটে শুয়ে পড়লো,আর চোখ খুললো না ।আকাশ ভেঙ্গে পড়লো সোমলতার মাথায়।বাবা কবেই গত হয়েছেন, মা কাকা জ্যাঠার সংসারে থাকেন। দুবছরের দীপন কে নিয়ে সোমলতা কিংকতর্ব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লো।একদিন সন্ধ্যেবেলায় বাচ্চা নিয়ে বসে আছে, কলিংবেল বেজে উঠলো ।দরজা খুলে সোমলতা অবাক, নীলয়!হ্যাঁ নীলয় তো একমুখ দাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ।এরপর প্রতি সন্ধ্যে নীলয় দীপনের খেলার সাথী হয়ে উঠলো, রাতে খাইয়ে শুয়িয়ে নীলয় বাড়ি চলে যেত ।একদিন নীলয় সোমলতাকে বললো, এভাবে আর কতদিন চলবে সোম!যদি তুমি রাজি থাকো আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই আর দীপনের আঙ্কেল থেকে বাবা হয়ে উঠতে চাই ।সোমলতা প্রথমটা রেগেই উঠেছিল, তারপর একদিন রেজিস্ট্রি হয়ে গেল নীলয়ের সাথে ।শ্বাশুড়ি বলেছিলেন নির্লজ্জ বেহায়া মেয়ে বিধবা হয়ে বরের বন্ধুর সাথে ফষ্টিনষ্টি করে, এ বিয়ে আমি মানিনা। সব শূন্যতা মুছে ফেলে একদিন নিলয়ের সন্তান সোমলতার গর্ভে এল।
ছেলের জন্ম হতেই বড় ছেলের সাথে মিলিয়ে নাম রাখলো দেবেশ ।আচ্ছা মানুষটা কি দেবতা! কিছুই কি চাহিদা নেই জীবনে! একবছর আগে নীলয়ও চলে গেছে তাকে ছেড়ে ।স্মৃতির কাঁটা বুকে নিয়ে সংসার আবর্তে সোমলতা এখন একা, দেবজিতের ছবিটা ড্রয়ারে রেখে দিল ।শাড়ির আঁচল দিয়ে নীলয়ের ছবিটা মুছে দিল ।একটা অদৃশ্য ত্রিভুজ যেন তাকে ঘিরে রেখেছে, কই সেতো একা নয়।