রক
#####
অফিস বেরোতে আজকাল রোজই দেরি হচ্ছে অয়নের । উত্তর কলকাতার পুরোনো পাড়ায় তাদের আদ্যিকালের রক ওলা বাড়ি , আজকাল আর এ সবের চল কোথায় ! দাদু কি তাঁরও বাবা জেঠার ভীমরতি বুদ্ধি এসব , আজকাল উটকো ঝামেলার জন্য এসবের পাট বাদ দিয়েছে সকলে । একটি বসতবাড়িতেও তুমি আর রক বস্তুটি দেখতে পাবে না ।
বেশ করেছে , রক মানেই যতো উটকো ঝামেলা । সাত শরিকের বাড়ি , সারাবার কথা বললেই চোখ উল্টে দেয় সবাই । জায়গায় জায়গায় ফাটল বেয়ে অশ্বত্থের বাড়বৃদ্ধি , আসলে সকলেই ধান্দায় আছে মোটা টাকা নিয়ে প্রোমোটার এলেই বেচে দিয়ে টাকাকড়ি নিয়ে সটকান দেবে । আজকাল আর একগুচ্ছের আত্মীয়স্বজনের হ্যাপা সামলায় কেউ ?
উত্তরাধিকারে সামনের দুটো ঘর আর একফালি বারান্দা অয়নদের , বারান্দাটা ভেতরে যেমনটা আগেকার রেওয়াজ । ওখানেই ছোট্ট করে একটা কিচেন বানিয়ে নিয়েছে অয়ন , নামেই কিচেন আসলে একটা রান্নার স্ল্যাব আর সিঙ্ক । সেজন্য ও কম লড়তে হয়নি অয়ন আর শ্রীতমাকে , এই লড়াইয়ের ভয়েই আটকে আছে আলাদা বাথরুমের স্বপ্ন ।
তাও যাহোক করে চলে যাচ্ছিলো , মনে মনে ভেবে রেখেছিল সময় সুযোগ হলেই একটা ছোট্ট ফ্ল্যাট , একদম নিজেদের । সকালে উঠেই একগাদা তুতো আর তেতো মুখ , ইচ্ছে না থাকলেও দেঁতো হাসি মনরাখা কথা এসব কিচ্ছুটি না । নিজেদের মতো করে বাঁচা , মনের মত করে বাঁচা । টুকলু এখনো ছোটো , ওর ঘাড়ে এই বোঝা চাপানোর কোনো মানেই হয় না ।
কিন্তু ঐ যে , বাধ সাধলো ঐ রক । বাইরের দিকেই অয়নদের ঘরের জানলাগুলো , তার সামনেটাতে রক । লাল মেঝের বেশ সুন্দর করে বানানো , প্রতিদিনই তাতে ঘাঁটি গেড়ে বসে কেউ না কেউ আর তাড়াতে অয়নদের মাথাখারাপ হয় । পাগল কুকুর বাউন্ডুলে , এক একদিন ছাগলের দল একবার তো কুম্ভমেলাযাত্রী সাধুরাও কয়েকজন । চেঁচামেচি করেও নড়তে চায়না তখন অগত্যা জলের ছিটে , কি করবে আর নোংরা পরিস্কারের দায়িত্ব তো ওদেরকেই নিতে হয় প্রতিবার ।
এইবারটা অন্যরকম , তিন চারদিন আগে হঠাৎ শ্রীতমা আবিষ্কার করলো রকে একজন বৃদ্ধা বসে অনেকক্ষণ থেকে । বেশভূষা দেখে ভিখিরী মনে হচ্ছে না , হয়তো কোথাও যেতে গিয়ে ক্লান্ত হয় পড়েছেন বিশ্রাম নিচ্ছেন একটু । শ্রীতমা আর মাথা ঘামায়নি , বিকেলেও দেখে একভাবে বসে আছেন ভদ্রমহিলা । তখন শ্রীতমার সন্দেহ হয় একটু , রাস্তা দিয়ে লোকজন দেখতে দেখতে যাচ্ছে কিন্তু কেউ কিছু বলছে না । শ্রীতমা গিয়ে জিজ্ঞেস করতে জানে ওনার ছেলে বাসে করে এনে এখানে বসিয়ে গেছে , বলেছে " বসো একটু এখনি আসছি ।"
যা বোঝার শ্রীতমা তখনই বুঝে গেছে , সে ছেলে যে আর কোনদিনই ফেরার নয় তা বুঝতে কষ্ট হয় না । ভদ্রমহিলা বলতেও পারেননা ঠিকানাটিকানা , খালি ছেলের নাম বৌমার নাম । তা সে নামে কলকাতায় কতো লোক , আবার কলকাতাই যে হবে তার ও মানে নেই । বাসে করে তো বর্ধমান থেকেও আসা যায় , শিলিগুড়ি থেকেও । তবে খোঁজ খবর হচ্ছে কাগজে ভদ্রমহিলার চবি দিয়ে বিজ্ঞাপন ও । মাথাটা মনে হচ্ছে গন্ডগোল আছে কিছু নাহলে অফিস ফেরত অয়নকে দেখেই বা ও রকম আনচান করে উঠবেন কেন !
যদ্দিন না কেউ আসছে অয়নদের ঘরেই অধিষ্ঠান তাঁর , শ্রীতমা তো আর রকে বসিয়ে রাখতে পারে না বিবেক বস্তুটা এখনো কথা বলে ওর । অতএব অফিস যাওয়ার আগে অয়নের কিছু কাজ বেড়েছে , জানতে হয় কিছু লাগবে নাকি আনতে । পান খয়ের গামছা নারকেল তেল , মা কে তো জন্মের পর চোখেই দেখেনি । আর মাসীমাও যে কেমন করে মনু বলে ডাকেন , মনু তো অয়নের ও......