দূর্বা চ্যাটার্জি

শীতের ডায়রী থেকে

********

হয়তো বা ভিনদেশী। হয়তো সে এ শহরেরই। হয়তো সে এসেছে আকাশগঙ্গার ওপার থেকে। কি যায় আসে।


আরও গভীর হত যদি তার দংশন ক্ষত, এ শীতের মধু ও মোমের প্রলেপেও ঢাকা যেত না, তবে তাদের বলা যেত,  সে থেকে যাবে, হিমযুগের পরেও থেকে যাবে। তোমরা তোমাদের মদ ও রুটির অংশ দাও ওকে।
তোমরা তা দাওনি। নীল হয়ে আসা ঠোঁটে দুধ আর ব্র‍্যান্ডি ঢেলে দিয়েছিলাম আমি। তার হাত আমাকে তাই আঁকড়ে ধরেছিল শিশুর মত।
বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার কামনা করে ওর কড়ি আঙুল দাঁত দিয়ে আলগা কামড় দিয়েছি দেখে সে আমার আঙুল কামড়ে দিল, আর এক ফোঁটা রক্তের নোনতা স্বাদ ওর ভিতরের সমুদ্রকে ডাক দিল। রক্তের লোভে পাগল হয়ে উঠলো সে।
তাকে নিশ্চিতভাবে বিরত করতেই আমি এক মধুক্ষরা মোমের পুতুল হয়ে গেলাম। লাল পাথর সব নীল হয়ে গেল অন্তরে।
রুটি আর
মদ খেয়ে নিত চুপচাপ। গিলে খেত অন্ধকারের শব্দটুকুও। ওর পাশে বসতে তাই ভয় করত।
আমার ছায়াতেও আমিষ গন্ধ শুঁকত সে। আমি বেছে বেছে যতই শীতলতম স্থান খুঁজে বেড়াই আশ্রয়ের জন্য, সে তার যাবতীয় ওম নিয়ে এলোমেলো করে দিত পারদের কাঠি। গলনাংক থেকে জ্বলনাংকে পৌঁছে গিয়ে আমি মিনতি করতাম। সে মধু খেত না। মোম ছুঁত না। তার চোয়ালের চাপে আমার ঘাড়ে, বুকে, পেটে রক্তবিন্দু দেখা দিলে চেটে নিত।
নীল পাথরগুলি আবার লাল হয়ে যেত সব। আর এভাবেই গোটা শীত আমরা মধু, মোম,  রুটি, রক্ত নিয়ে কাটিয়ে দিতাম।