মেঘনা চট্টোপাধ্যায়

আমাদের কথা 

######

শীত এসে গেলো।  আজ এই ঋতুর প্রথম দিন। পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো প্রকাশিত হল প্রবচনের "হিমিকা" সংখ্যা। খুব সামান্য আয়োজনে।

কুহেলী দাশগুপ্ত(চৌধুরী)

স্বাধীন দেশের বীর সেনানী (শ্রদ্ধাঞ্জলি)                  

##### 

পাক রেজিমেন্টের এক অফিসার এসে বন্দুক কেড়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। "ছোড় দো ইন লোগো কো। বহুত হুয়া। কিসিকো মার না মত্"। উল্টোদিকে সারিবদ্ধভাবে চোখ বেঁধে,পেছন মুড়ে হাত বেঁধে দাঁড় করিয়ে রাখা ছিল আট/দশ জন বন্দিকে। সকল বন্দিদের ফায়ারিং করার আদেশ ছিল সেদিন । সময়টা ছিল ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধকাল। অশান্ত বাংলাদেশ, চারদিকে কার্ফু জারি হয়েছে।

সুপর্ণা বোস




'আমাতি'র ভেঁপু
#####
এই যে হঠাৎ এমন মধ‍্যদিনে ভায়োলিন শেখার সখ হল একে কি তোমরা পাগলামো বলবে? বললেও কিছু করার নেই।আমি মানুষটাই এমন।উঠল বাই তো কটক যাই ধরনের।এক্ষেত্রে অবশ‍্য কটক নয়।সোজা লালবাজারে এন.মন্ডলের দোকানে।সেখানে থরেথরে সাজানো আছে বিভিন্ন মান ও দামের বাদ‍্যযন্ত্র।

নন্দিতা মিত্র

ইতিহাস ছুঁয়ে এসে

#####

ছোটবেলা থেকেই ইতিহাসের প্রতি আমার টান খুব বেশি। বিশেষ করে কোনও জায়গার পুরনো দিনের ইতিহাস আমাকে ভীষণভাবে টানে। তাই ডিসেম্বরের ভরা শীতে যখন রাজগির যাওয়ার কথা উঠল তখন তো আনন্দে আত্মহারা।

রোনিয়া রায়

 

জীবন রে !
###

শীত নিয়ে কিছু লিখতে গেলেই কমলালেবু, নলেনগুড়, খেজুর রস, পিঠে পুলি এসবেরা যেনো ভীড় করে আসে। আসলে আমি খানিক খাদ্যবিলাসী মানুষ। তাই শীত মানে আমার কাছে মনোরম সব খাবার আর নাটকের দল নিয়ে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ডানা মেলে ওড়া....

সর্বাণী রিঙ্কু গোস্বামী

 রক
#####
অফিস বেরোতে আজকাল রোজই দেরি হচ্ছে অয়নের । উত্তর কলকাতার পুরোনো পাড়ায় তাদের আদ্যিকালের রক ওলা বাড়ি , আজকাল আর এ সবের চল কোথায় ! দাদু কি তাঁরও বাবা জেঠার ভীমরতি বুদ্ধি এসব , আজকাল উটকো ঝামেলার জন্য এসবের পাট বাদ দিয়েছে সকলে । একটি বসতবাড়িতেও তুমি আর রক বস্তুটি দেখতে পাবে না ।

সুপর্ণা ভট্টাচার্য

পয়মন্ত
###

'রাইতের বেলা মস্করা করতাস?'

'আমি, আমি মস্করা করছি? '

'তুমি না ত কী আমাগো পড়শী বাবুলের মা করতাসে? '

শুভশ্রী সাহা



হিম পড়ছে

###

-- তা দিলি দিতে পারে খদ্দের নক্কী কিন্তুক আমি পারলুম নি! মাপ দিলুম
-- নাও নাও, নেহাৎ  এই বাড়ির সামনে  নিয়ে  আসো বলেই পার পাও বুজেছ !  তিরিশ টাকার পেঁপে চল্লিশ টাকা চাইছো! ঝুমার গলা পেলেন মঞ্জু!

শর্মিলা ঘোষ

 ত্রিভুজ

####

সোমলতা আয়নায় নিজেকে দেখছিল,কাঁচাপাকা চুল ,চামড়ায় বয়সের ছাপ সুপষ্ট , চোখে হাই পাওয়ারের চশমা ।বড় ছেলে দীপন কানাডায় ফ্যামিলি নিয়ে থাকে।

মৌমিতা ঘোষ

ধূসর নক্সা

###
সোয়েটারের ঘরের মতো ভুল হয়ে যাওয়া সময়।পার করা ইষ্টিশন, হেমন্তী কুয়াশা।বিষাদের অন্য নাম আঁকিবুঁকি।

দূর্বা চ্যাটার্জি

শীতের ডায়রী থেকে

********

হয়তো বা ভিনদেশী। হয়তো সে এ শহরেরই। হয়তো সে এসেছে আকাশগঙ্গার ওপার থেকে। কি যায় আসে।

মীরা মুখোপাধ্যায়

তুতুলের জামা

###

প্রতি বছরের মতো এ বছরও

টেনে নামিয়েছি সব

ছোট্ট লাল সোয়েটার, লাল টুপি

রিমলী বিশ্বাস

পাখি
###
পরিযায়ী পাখির মতন উড়ে উড়ে বেড়াই
যদিও, আমি শীতের পাখি নই!

ইন্দ্রানী বন্দ্যোপাধ্যায়

মধুক্ষরা
###                   
 হেমন্তের ওমে  নম্র  সাঁঝবাতি
মৃতপ্রায় স্বপ্নেরা   
              জেগে ওঠে  
                      দুধেলা ধানের  শিষে

বন্যা ব্যানার্জী

আশ্রয়
###

অন্তহীন লহরে নেমে আসা মেঘের স্বরলিপি আজ বড়ো ক্লাসিক মনে হয়।

পাপড়ি দত্ত

তোমার পরশে
****
শরৎ ছড়িয়ে গেল শিউলির সুবাস
হেমন্ত তুমিও এলে ,হাসি ছিল জানি তোমারও একরাশ।
সোনালী রোদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে,
আয় তোরা করিসনে অবহেলা যদি হারিয়ে ফেলিস পাছে। 

গৌরী রায় নন্দী